'The Productive Muslim' Book Notes

 



• প্রোডাক্টিভিটি: অল্প সময়ে, অল্প শ্রমে, বেশি কাজ করে ফলাফল অর্জন করার ক্ষমতা।

• ইসলামের দৃষ্টিতে প্রোডাক্টিভিটি: সময়, জীবন ও শক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা, যাতে আল্লাহ খুশি হন, দুনিয়াতে উপকার হয় এবং প্রতিটি দুনিয়াবি কাজ আখিরাতের পাথেয় (উপকারী) হয়ে ওঠে।


• প্রোডাক্টিভ: যে ব্যক্তি অল্প সময়ে ও কম পরিশ্রমে বেশি কাজ করে এবং ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে।

• প্রোডাক্টিভ মুসলিম: যে ব্যক্তি ইসলামের দৃষ্টিতে সময়, জীবন এবং শক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করে,

যাতে আল্লাহ খুশি হন,

দুনিয়াতে মানুষের উপকার হয়, এবং

প্রতিটি দুনিয়াবি কাজ আখিরাতের পাথেয় (উপকারী) হয়ে ওঠে।

সে শুধু নিজেকে নয়, সমাজ ও উম্মাহর (মুসলিম জাতির) কল্যাণেও কাজ করে এবং আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি নেয়। [AI]


• ইসলামের দৃষ্টিতে প্রোডাক্টিভিটি: ইসলাম প্রোডাক্টিভিটিকে কেবল একটা 'উপায়' হিসেবে বিবেচনা করে। ইসলাম প্রোডাক্টিভিটিকে দেখে দেহ, মন ও আত্মার ভারসাম্য নিয়ে আসার মাধ্যম হিসেবে। (ভারসাম্য বলতে বোঝায় সমতা বা সুষম অবস্থা, যেখানে কোনো কিছু অতিরিক্ত বা কম না হয়ে ঠিকঠাক অবস্থায় থাকে) [পৃ: ২৪]

• প্রোডাক্টিভিটির সূত্র: প্রোডাক্টিভিটির = মনোযোগ × শারীরিক কর্মক্ষমতা × সময় (আখিরাতের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাওয়ার লক্ষ্যে; কল্যাণকর লক্ষ্য) [পৃ: ৪৩]




• যেকোনো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা: আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে আমরা যা-ই করি তা যেন আল্লাহ তায়া’লাকে খুশি বা সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে করি। "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" -  সূরা জারিয়াত: ৫৬ [পৃ: ২৫]


• সুন্নাহ মেনে চলা: নবিজির জীবনে প্রতিটি দিক নিয়ে প্রতিদিনের কিছু কাজের তালিকা করুন। তিনি কীভাবে ঘুমাতেন, কীভাবে খেতেন, তাঁর সময় কীভাবে কাটাতেন ইত্যাদি। তালিকাভুক্ত শেষে আপনি ইতোমধ্যে যেগুলো মেনে চলেন, সেগুলোতে টিক চিহ্ন দিন। আর যেগুলো এখনও অনুসরণ করেন না, সেগুলো হাইলাইট করুন। [পৃ: ৭০]


• শেষটা ভেবে শুরু করা: Begin with the end in mind (শেষটা ভেবে শুরু করা): মুসলমানদের কাছে চূড়ান্ত শেষ মানেই পরকাল। [পৃ: ৩২]


• আল্লাহর প্রতি সচেতন থাকা: সর্বদা আল্লাহর প্রতি সচেতন থাকুন। প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন-'আল্লাহ যদি আমাকে এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, আমি কী বলব? কীভাবে এটিকে আমি আল্লাহর দৃষ্টিতে ন্যায়সংগত করতে পারি?' [পৃ: ৫০]


• সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করা ও ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া: আপনি সৎ উদ্দেশ্যে ভালো যেকোনো কাজ করবেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। কাজের ফলাফল আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেন। আল্লাহ আপনার উদ্দেশ্য থেকে বিচার করবেন, সফল হোন বা না হোন। তাই উদ্দেশ্য সঠিক থাকতে হবে। [পৃ: ৩৯]


• সৎ কাজ করা: "পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকর্ম করবে, যদি সে মুমিন হয়, তবে আমি তাকে দুনিয়াতে একটি পবিত্র ও শান্তিময় জীবন দান করব। আর আখিরাতে আমি তাকে পুরস্কৃত করব তার সর্বোত্তম কাজ অনুসারে।" - সূরা নাহল: ৯৭ [পৃ: ৪২]


• আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা: "আর স্মরণ করো, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত; নিয়ামত মানে যে কোনো ভালো জিনিস যা আল্লাহ আমাদের দান করেন) আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।" - সূরা ইব্রাহিম: ৭ [পৃ: ৪২]


• ধৈর্য ধারণ করা: অসুখ, বিপদাপদ, খারাপ বা কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা। "আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ভীতি, অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি এবং ফসল ও আয়-রোজগারের হ্রাস দ্বারা পরীক্ষা করব। এ অবস্থায় যারা ধৈর্য ধরে, এবং যখনই কোনো বিপদ আসে, তখন বলে— 'আমরা তো আল্লাহরই জন্য, এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করব'—হে নবী! তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও। তাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে থাকবে অসীম অনুগ্রহ ও দয়া, এবং তাঁর রহমত তাদেরকে ঘিরে নেবে। আর তারাই হলো সৎপথপ্রাপ্তরা।" - সূরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭ [পৃ: ৪২]


• বিপদের সময় 'ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন' পড়া: আল্লাহ তায়া’লা বলেন - "যারা যখন কোনো বিপদে পতিত হয়, তখন বলে (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করব।" - সূরা বাকারা: ১৫৬

"বিপদের প্রথম আঘাতে ধৈর্য ধারণই হচ্ছে প্রকৃত ধৈর্য।" - সহীহ বুখারী: ১২৮৩ [পৃ: ৫৭]


• আল্লাহ সম্পর্কে বেশি বেশি জানা: তাঁর নাম ও গুণাবলি এবং সেগুলো কীভাবে আপনার জীবনে প্রভাব ফেলে, তা জানুন। [পৃ: ৫০]


• আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা: গুনাহ করে থাকলে অবিলম্বে তাওবা করে নিন। চতুর শয়তানের প্রতারণাপূর্ণ কোনো কথায় কান দেবেন না। এটি ভাববেন না-আপনি এত খারাপ যে, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবে না। আল্লাহ কুরআনে বলেন- "বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছো (পাপ করে সীমা লঙ্ঘন করেছো), তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" - সূরা জুমার: ৫৩ [পৃ: ৫০]


• প্রতিদিন আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া: যেকোনো কাজে বা স্কুলে যেতে কিংবা বাসার প্রাত্যহিক টুকিটাকি কাজের সময় সচেতনভাবে ও আন্তরিকতার সাথে আস্তাগফিরুল্লাহ বলুন। এটি আপনার সমস্ত কিছুতে বারাকা এনে দেবে। "তখন আমি (নূহ) বলেছিলাম, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে বারিধারা (বৃষ্টি) বর্ষণ করবেন, এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে শক্তিশালী করবেন, আর তিনি তোমাদের জন্য উদ্যান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী প্রবাহিত করবেন।" - সূরা নুহ: ১০-১২ [পৃ: ৭১]


• হতাশা বোধ করলে ক্ষমাপ্রার্থনা করা: আপনি বিষণ্ণ, হতাশ এবং সম্পূর্ণরূপে আনপ্রোডাক্টিভ বোধ করলে ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। দেখবেন, হালকা সুখ অনুভব করছেন এবং ভালো জিনিসগুলো আপনার পক্ষে আসছে। [পৃ: ৭১]


• আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা: "আর যে আল্লাহকে ভয় করে (তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী চলে), তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন।

আর তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে রেখেছেন।" - সূরা তালাক: ৩

এই ধারণাটি মনে গেঁথে নিন। দিন শুরুর আগে নিজেকে বলুন-'আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সবকিছুই আমি করব।' এতে আপনি অনুপ্রাণিত হবেন, আশাবাদী হবেন এবং সহজে ছিটকে পড়বেন না। বিশ্বাস রাখতে হবে, আল্লাহ আপনাকে সেরাটাই দেবেন; যদিও দৃশ্যত মনে হয় আপনার পদক্ষেপগুলো কার্যকর হচ্ছে না। [পৃ: ৫১]


• ক্ষমা করা: আপনার সাথে যারা অন্যায় করেছে তাদের ক্ষমা করুন। "আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন কসম না করে যে, তারা নিকটাত্মীয়দের, মিসকিনদের এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। আর তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন? আর আল্লাহ বড়োই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" - সূরা নুর: ২২ [পৃ: ১২৩]


• মানসিক সমস্যার সহজ সমাধান: যেকোনো মানসিক দ্বন্দ্ব—হোক তা পরিবারে, কর্মস্থলে বা বন্ধুদের সঙ্গে—২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিটিয়ে ফেলুন। সমস্যা পরের দিনে না টেনে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। দেরি করলে মানসিক চাপ বাড়বে, সম্পর্ক দুর্বল হবে এবং ঘুমও নষ্ট হবে। আপনি ভুল করুন বা না করুন, শান্তির জন্য প্রথমে এগিয়ে যান। "দুজনের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।" - সহীহ বুখারী: ৬০৭৭ [পৃ: ১২৪]


• আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ নয়: জীবনে বড় স্বপ্ন দেখা এবং সেগুলো অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা জরুরি, তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কবুলিয়ত। আবদুল্লাহ ইবনুল উমরের গল্পে দেখা যায়, তিনি শুধু আমলের পরিমাণ নয়, বরং আল্লাহর কাছে তা গ্রহণযোগ্য হওয়াকেই মূল্য দিতেন (দলীল: সূরা আল-মায়িদাহ:২৭)। তাই সাফল্যের পেছনে দৌড়ানোর পাশাপাশি ইখলাস (আন্তরিকতা; আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কাজ সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে করা। অর্থাৎ, লোক দেখানো বা দুনিয়াবি লাভের উদ্দেশ্যে নয় বরং একমাত্র আল্লাহর জন্যই কাজটি করা) ও তাকওয়া (আল্লাহভীতি) বজায় রাখতে হবে। জীবনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ইচ্ছাকে মেনে নিয়ে প্রোডাক্টিভ থাকাই প্রকৃত বিজয়। শিক্ষা হলো—অর্জন নয়, আল্লাহর রাজি-খুশিই চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত। [পৃ: ২৩৯]