#IPN: 1
*• আল্লাহ তায়া’লা আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য।*
"আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" [সূরা জারিয়াত: ৫৬]
ইবাদত মানে শুধু নামাজ, রোজা, হজ্জ বা যাকাত নয়। বরং জীবনের প্রতিটি ভালো কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয় সেটাও ইবাদত। সুতরাং, আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি কাজে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়া’লা আমাদেরকে কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন।
*• আল্লাহর ভালোবাসা পেতে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর অনুসরণ করা আবশ্যক।*
"বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ–কে) অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা আলে ইমরান: ৩১]
*• রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।*
"তোমাদের জন্য অবশ্যই রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে, সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" [সূরা আহযাব: ৩৩:২১]
*• রাসূলুল্লাহ ﷺ যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করা জরুরি।*
"রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং তিনি যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [সূরা হাশর: ৫৯:৭]
আমরা যেন আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ তথা ঘুম, খাওয়া, চলাফেরা, কথা বলা, ব্যবসা করা — এককথায় সবকিছু রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাহ মোতাবেক করার চেষ্টা করি। তাহলেই আমাদের জীবন হবে প্রকৃত ইবাদতে ভরপুর এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।
#IPN: 2
*• যেকোনো ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা (ডানকে প্রাধান্য দেওয়া):*
"আল্লাহর রাসূল ﷺ সব ভালো কাজে ডান দিক দিয়ে শুরু করতে ভালোবাসতেন তথা জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, অজু-গোসল করা এবং অন্যান্য সকল কাজে।" [সহীহ বুখারী: ১৬৮, সহীহ মুসলিম: ২৬৮]
আসুন, আজ থেকেই শুরু করি। প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে শুরু করে একেকটি সুন্নাহকে আমাদের জীবনের অঙ্গ করে নেই।
কারণ, সুন্নাহ মানে ইবাদত, আর ইবাদত মানে জান্নাতের পথ।
#IPN: 3
*• জুতা পরার সময় প্রথমে ডান পায়ে জুতা পরা এবং খুলার সময় প্রথমে বাম পা দিয়ে জুতা খোলা:*
"তোমাদের কেউ যখন জুতা পরবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করুক, আর যখন খুলবে তখন বাম দিক থেকে শুরু করুক, যাতে ডান পা প্রথমে পরা হয় এবং শেষ পর্যন্ত খোলা হয়।" [সহীহ বুখারী: ৫৮৫৫, সহীহ মুসলিম: ২০৯৭]
*• এক পায়ে জুতা পরে হাঁটাচলা না করা:*
"তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। বরং উভয় পায়ে পরে কিংবা উভয় পা থেকেই খুলে ফেলুক।" [সহীহ বুখারী: ৫৮৫৪, সহীহ মুসলিম: ২০৯৮]
আমরা যেন এসব সুন্নাহকে আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজে অনুসরণ করি। তাহলেই আমাদের প্রতিটি কাজ হবে ইবাদত এবং আমরা আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জনে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।
#IPN: 4
*• বাথরুম/টয়লেটে প্রবেশের সময় বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং দোয়া পড়া:*
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘ঊযু বিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়িস।
অর্থ: আল্লাহর নামে (প্রবেশ করছি)। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। [সহীহ বুখারী: ১৪২, সহীহ মুসলিম: ৩৭৫, তিরমিজি: ৬০৬]
*• বাথরুম/টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হওয়া এবং দোয়া পড়া:*
আরবি:
غُفْرَانَكَ
উচ্চারণ: গুফরানাকা
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। [সুনান আবু দাউদ: ৩০, সুনান ইবনে মাজাহ: ৩০০]
সুন্নাহ শুধু একটি অভ্যাস নয়—এটি জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ, বরকতময় ও আল্লাহর প্রিয় পথে চলার উপায়। আসুন, ছোট ছোট কাজেও রাসূল (সা.)-এর পথ অনুসরণ করে প্রতিটি কাজকে ইবাদতে পরিণত করি।
#IPN: 5
*• ঘুমানোর আগে 'বিসমিল্লাহ' বলে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া:*
ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত, যা আমাদের অনেকেরই অজানা। নিয়ত সহীহ করে, সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে 'বিসমিল্লাহ' বলে বিছানা ঝেড়ে ঘুমাতে গেলে এই আমলের সওয়াব অর্জিত হয়। এতে করে একদিকে সুন্নাত আদায় হয়, অন্যদিকে ঘুম হয় নিরাপদ ও বরকতময়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যাবে, সে যেন তার কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয় এবং বিসমিল্লাহ বলে, কারণ সে জানে না তার অনুপস্থিতিতে সেখানে কী ছিল।" [সহীহ বুখারী: ৭৩৯৩, সহীহ মুসলিম: ২৭১৪]
#IPN: 6
*• ঘুমানোর সময় ডান কাতে শোয়া ও ডান হাত ডান গালে রাখা:*
রাসূলুল্লাহ ﷺ ডান কাতে শুতেন এবং ডান হাত ডান গালে রাখতেন। এই সুন্নাত আমাদের ঘুমের সময় আদব শেখায় এবং নিরাপদ ও বরকতময় ঘুম নিশ্চিত করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "রাসূল (সা.) ডান কাতে শুতেন এবং ডান হাত গালে রাখতেন।" [সহীহ বুখারী: ৬৩১৫, সহীহ মুসলিম: ২৭১০]
#IPN: 7
*• ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পড়া •*
আয়াতুল কুরসী হচ্ছে কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত। ঘুমানোর আগে এটি পাঠ করে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমায়, সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হাফেজ (রক্ষক) তার সঙ্গে থাকেন এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।" [সহীহ বুখারী: ৫০১০]
#IPN: 8
*• ঘুমানোর আগে বাতি, আগুন বা আলো নিভিয়ে রাখা:*
এটি শুধু একটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ নববী নির্দেশনা। ঘুমের আগে আগুন, প্রদীপ বা বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে রাখা জীবন রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ সুন্নাতরূপে শিখিয়েছেন। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে, ঘরবাড়ি থাকে নিরাপদ, এবং আমাদের অনুসরণ হয় সুন্নাতের।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "তোমরা যখন ঘুমাতে যাও, তখন তোমাদের বাতি নিভিয়ে দাও।" [সহীহ বুখারী: ৬২৯৪, সহীহ মুসলিম: ২০১২]
#IPN: 9
*• পানির পাত্র ও খাবারের পাত্র ঢেকে রাখা:*
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন ঘুমানোর আগে পানির পাত্র ও খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত, যা আমাদের জান-মালের হেফাজত করে এবং জীবনে বরকত আনে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "তোমরা পানির পাত্র ঢেকে রাখো এবং খাবার আবৃত করো।" [সহীহ মুসলিম: ২০১৪]
#IPN: 10
*• ঘুমানোর আগে তাসবীহ (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার) পাঠ করা:*
এটি একটি অতি মূল্যবান আমল, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ হাতে ফাতিমা (রাঃ)-কে শিখিয়েছেন। একবার তিনি কষ্টের কথা জানালে এবং রাসূল ﷺ তাঁকে দাসী না দিয়ে এই তাসবীহগুলো শিক্ষা দেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "এগুলো তোমাদের জন্য চাকরের চেয়েও উত্তম।" [সহীহ বুখারী: ৩৭০৫]
#IPN: 11
*• সূর্যাস্তের পর (সন্ধ্যার শুরুতে) সন্তানদের (শিশুদের) ঘরে রাখা ও দরজা বন্ধ রাখা:*
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা পরিবারকে শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। সূর্যাস্তের পর কিছু সহজ সুন্নাত মেনে চললেই ঘরে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এটা শুধু একটি আমল নয়, বরং আমাদের পরিবার রক্ষার এক মহান উপায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "যখন রাতের প্রথম অংশ আসে (সূর্যাস্তের পর), তখন তোমরা তোমাদের সন্তানদের (শিশুদের) ঘরে রাখো, কারণ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তাদের ছেড়ে দিতে পারো। ঘরের দরজা বন্ধ করো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো, কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। তোমার পানি রাখার পাত্রের মুখ ঢেকে রাখো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো।" [সহীহ বুখারী: ৩২৮০]
#IPN: 12
*• ঘুমানোর আগে সূরা কাফিরুন পড়া:*
ঘুমানোর আগে সূরা কাফিরুন পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি আমাদের অন্তরকে শিরক থেকে নিরাপদ রাখে এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার ঘোষণা হিসেবে কাজ করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "তুমি যখন ঘুমের জন্য বিছানায় যাবে, তখন সূরা কাফিরুন পড়বে। নিঃসন্দেহে এটি শিরক থেকে মুক্তির মাধ্যম।" [সুনান আবু দাউদ: ৫০৫৫ (হাসান হাদীস)]
#IPN: 13
*ঘুমানোর দোয়া পড়া:*
ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দোয়াটি একবার পড়া সুন্নাত। এটি পড়লে আল্লাহর স্মরণে ঘুম শুরু হয়, আর ঘুম হয়ে ওঠে ইবাদতের অংশ।
দোয়া:
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি ও জীবিত হই। [সহীহ বুখারী: ৬৩২৫]

